Egiye Bangla

News Network

“The dirty bastards are back again”- এই একটি কথার জন্য তৈরী হয়েছিল অ্যাডিডাস ও পুমা | Egiye Bangla News
Feature

“The dirty bastards are back again”- এই একটি কথার জন্য তৈরী হয়েছিল অ্যাডিডাস ও পুমা

location_on Germany  access_time 04 Apr 2021 11:05 AM

Rony Mukherjee (Executive Editor) | Egiye Bangla News
Rony Mukherjee (Executive Editor)
পড়াশুনার সাথে সাথে আজকাল খেলাধুলার গুরুত্বও অপরিসীম, ধরুন আপনার ছেলে কিংবা মেয়ে ক্রিকেট অথবা ফুটবল কিংবা অন্য কোনো খেলাধুলার সাথে যুক্ত, সেক্ষেত্রে সেই খেলা সম্পর্কিত নানান সামগ্রীর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রতিটি খেলাধুলার নিজস্ব সামগ্রী থাকে কিন্তু এমন একটি সামগ্রী যা বেশিরভাগ খেলাধুলার ক্ষেত্রে অতন্ত্য আবশ্যকীয় সেটি হলো জুতো। অ্যাডিডাস ও পুমা বর্তমানে বিশ্ব দরবারে খেলাধুলার জুতো প্রস্তুতকারী কোম্পানি গুলোর মধ্যে অন্যতম দুটি সংস্থা। শুধুমাত্র খেলাধুলার জুতো তৈরিতেই এরা সীমাবদ্ধ নয়, খেলাধুলা সম্পর্কিত আরো অনন্য বস্তুও এরা তৈরী করে যার মধ্যে রয়েছে "জার্সি,শর্টস ,ব্যাগ ,সানগ্লাস এমনকি ডিওড্রেন্ট'ও"। প্রতিটি প্রোডাক্ট এরা গুণমানের দিক থেকে খুবই ভালো মানের তৈরী করে। 

অ্যাডিডাস ও পুমার তৈরী জুতো বিশ্বের নামিদামী খেলোয়াড়রা ব্যবহার করেন সে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো হোক বা লিওলেন মেসি কিংবা সচিন তেন্ডুলকর বা বিরাট কোহলি। এই দুই বিশ্ব নামজাদা কোম্পানির জুতো পরেই তারা তাদের ম্যাচগুলি খেলেন, কেউ কেউ তো আবার এই কোম্পানি গুলির ব্র্যান্ড আম্বাসাডার। তবে আজ আমাদের আলোচ্য বিষয় এটি নয়। আজ আমরা আলোচনা করছি এই বিশ্ববিখ্যাত দুটি কোম্পানির দ্বন্ধ নিয়ে। দুটি কোম্পানির প্রতিযোগিতা থেকে জন্ম নেয় দ্বন্দ্বের। আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা সক্ষম কোম্পানির মধ্যে লড়াই দেখেছি যা বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায়, নতুন উদ্ভাবন হয়, আরও এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও দেখায়। কিন্তু অ্যাডিডাস ও পুমা এই দুই কোম্পানির দ্বন্ধ কিন্তু বহু পুরোনো এবং খুবই আলাদা। কারণ এই দুই প্রবাদপ্রতিম কোম্পানির দ্বন্দ্বের কারণে ভাগ হয়ে গিয়েছিলো গোটা একটি শহর। হ্যাঁ  শুনতে অবাক লাগলেও কথাটা সত্যি। আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো জানেন না অ্যাডিডাস ও পুমা এই দুই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা আসলে দুই ভাই এবং দুই ভাইয়ের দ্বন্ধ থেকেই জন্ম নিয়েছিল বিশ্বকাঁপানো দুটি ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস এবং পুমা



আসুন এবিষয়ে একদম গোড়া থেকে জানা যাক, আজ থেকে প্রায় এক শতাব্দী আগের কথা, জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের হার্জোগেনোরাখ শহরে বাস করতেন ড্যাজলার পরিবার, সদস্য ছিল ৬ জন । স্বামী এবং স্ত্রী বাদে চার সন্তান ছিল “ফ্রিৎজ, রুডলফ, অ্যাডলফ ও মেরি”। প্রতিবেশীদের কাছে তারা "দ্য লন্ড্রি বয়েজ" নামেই পরিচিত ছিলেন কারণ  আর্থিক সংকটের জন্য মা পলিনা সহ ছেলেমেয়ে কাজ করতেন লন্ড্রিতে এবং বাবা ক্রিস্টোফ ভন উইলহেল্ম ড্যাজলার কাজ করতেন একটি জুতার কোম্পানিতে।

এভাবেই তাদের কোনোরকমে কাটছিলো কিন্তু ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি গেলো পুরো পাল্টে ফ্রিৎজ,রুডলফ ও অ্যাডলফের ডাক পরে জার্মান সেনাবাহিনীতে। যুদ্ধ শেষ হলে তিন ভাই অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরে আসে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার কারণে তাদের আর্থিক অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পরে তবে তারা হাল ছাড়েনি । প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-এর ফলে সেখানে প্রায় সমস্ত জুতোর কারখানা বন্ধ হয়ে যায় তাই অবশেষে ১৯২০ সালে মায়ের ধোপাখানাতে ছোট ভাই অ্যাডলফ স্বল্প পরিসরে তৈরী করেন এক জুতার ফ্যাক্টরি। মূলত খেলাধুলার জুতোই তৈরী করতেন অ্যাডলফ । ১৯২৪ সালে মেজো ভাই রুডলফও যোগ দেয় তার সাথে। এভাবেই যাত্রা শুরু হয়েছিলো ড্যাজলার ভাইদের জুতার কারখানা "Gebrüder Dassler Schuhfabrik"-এর।


এমন একটা কঠিন পরিস্থিতে জুতার কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত ছিলো বেশ ঝুঁকিপূর্ণ প্রথমদিকে ব্যবসা না চললেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে আসতে থাকে জুতোর অর্ডার এবং ঠিক হতে থাকে ড্যাজলার ভাইদের আর্থিক অবস্থা। ব্যবসা চালানোর ক্ষেত্রে দুই ভাইয়ের দায়িত্ব ছিল দুরকম। অ্যাডলফ শান্ত স্বভাবের হওয়ার কারণে মনোযোগ দিয়ে জুতোগুলি ডিজাউন এবং তৈরী করাই তার দায়িত্বে ছিল, অন্যদিকে রুডলফের দায়িত্ব ছিল এই জুতোগুলিকে বিক্রি করা | এভাবেই আস্তে আস্তে এগোতে থাকে তাদের তৈরী কারখানা। 

১৯২৮ সালে রুডলফ ফ্রিডল নামে এক নারীকে নিজের জীবনসঙ্গিনীরুপে বেছে নেন এবং তারপর ১৯৩৪ সালে অ্যাডলফও বিয়ে করেন কেথ নামে এক নারীকে, ততদিনে জার্মানির ক্ষমতা হিটলারের হাতে তিনি খেলাধুলা ও শরীরচর্চার উপর জোর  দেন। সেকারণে ড্যাজলার ভাইদের জুতার কারখানাও বিপুল লাভের মুখ দেখতে থাকে  এবং শহরের সবচেয়ে ধনী পরিবারের মর্যাদাও এনে দেয়। কিন্তু যতই তাদের কোম্পানি বড় হতে থাকে ততই দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের মাঝে সম্পর্ক দিন দিন খারাপই হতে থাকে। একই বাড়িতে থাকার দরুন সম্পর্কের তিক্ততা বাড়তে থাকে ।



এর মধ্যেই ১৯৩৬ সাল,শুরু হয়ে গেলো বার্লিন অলিম্পিক। এমন একটা বড় মঞ্চ পেয়ে ড্যাজলার ভাইরা পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা ভুলে ব্যবসায় মনোযোগী হলেন। সেইবার অ্যাথলিটদের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের স্প্রিন্টার জেসি ওয়েন্সও ছিলেন। এক স্যুটকেস ভর্তি জুতা নিয়ে অ্যাডলফ ড্যাজলার সোজা চলে গেলেন অলিম্পিক ভিলেজে, দেখা করলেন জেসি ওয়েন্সের সাথে। অ্যাডলফের জুতার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখে পছন্দ হয়ে গেলো জেসির। তাই অন্যান্য অনেক কোম্পানির এজেন্টকে হতাশ করে তিনি বেছে নিলেন অ্যাডলফ-রুডলফ ভাইদের কোম্পানির সেই জুতাকেই। সে বছর মোট চারটি স্বর্ণপদক নিজের ঝুলিতে পুরেছিলেন জেসি ওয়েন্স এবং তার সাথে বিশ্ব পরিচিতি পেয়েছিলো দুই ভাইয়ের নতুন জুতার ব্র্যান্ডের সাথে।



১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো "Gebrüder Dassler Schuhfabrik" কোম্পানির ব্যবসা আবারো সমস্যায় পড়লো। দেশের ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যেতে হলো দুই ভাইকেই । অল্প পরিসর নিয়ে ব্যবসা যে যেমন ভাবে সামলাচ্ছিলেন,এভাবেই আস্তে আস্তে দুই ভাইয়ের মধ্যে দূরত্ব তৈরী হলো।

একসময় মিত্র বাহিনীর বোমাবর্ষণ শুরু হলো হার্জোগেনোরাখ শহরে। এই বর্ষনই দুই ভাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভাঙ্গন ধরিয়ে দেয় ঘটনাটি ঘটেছিলো ঠিক এভাবে- রুডলফ তার পরিবার নিয়ে উঠেছিলেন এক আশ্রয়কেন্দ্রে সেদিন সেই একই জায়গায় একেবারে শেষে নিজের পরিবার নিয়ে উঠেছিলেন অ্যাডলফও। সেখানে এসেই তিনি বলে বসেন  “The dirty bastards are back again” আসলে অ্যাডলফ কথাটি বলেছিলেন মিত্রবাহিনীর প্লেনগুলোকে উদ্দেশ্য করে কিন্তু যেহেতু দুই ভাইয়ের মধ্যে তৈরী হওয়া খারাপ সম্পর্কের জন্য রুডলফ ভেবে নিলেন যে, কথাগুলো তার পরিবারের উদ্দেশ্য করেই বলা হয়েছে।


দ্বিতীয় বিশযুদ্ধ শেষ হলে দুই ভাইয়ের ডাক পাঠান আমেরিকান কর্তৃপক্ষ কারণ তারা নাৎসি পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। এখানেও ঘটলো এক মহাবিপদ, অ্যাডলফের জুতা বানানোর দক্ষতায় মুগ্ধ হয়েছিলো আমেরিকান কর্তৃপক্ষ, অলিম্পিকের সময় তার তৈরী জুতো আমেরিকান অ্যাথলেটদের বেশ কাজে এসেছিলো বলেও সুনাম ছিলো তার। তাই মুক্তি পেয়ে যান তিনি। কিন্তু রুডলফকে বন্দি শিবিরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।আর সেখানেই তার মনে নানান সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু হয় তিনি ভাবতে থাকেন অ্যাডলফ গোটা কোম্পানি একা ভোগ করতে চাইছেন এবং অ্যাডলফের সাথে আমেরিকান কর্তৃপক্ষ-এর ভালো সম্পর্ক থাকার দরুন তাকে বিনা দোষে আটকে রাখছেন অর্থাৎ তার বন্দি দশার জন্য দায়ী হলেন অ্যাডলফ।



ব্যাস ছাড়া পাওয়ার পর দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হয় চূড়ান্ত যুদ্ধ, বিষয়টি এমন মাত্রায় পৌঁছে যায় যে নিজেদের হাতে তৈরী করা এতো বড় কোম্পানি আর কোনোমতেই একসাথে চালানো সম্ভব হচ্ছিলো না। শেষমেশ সিদ্ধান্তে আসা হয় যে কোম্পানি সমানভাবে ভাগ করা হবে , সকল কর্মচারীদের পছন্দ মতো তারা কোনো এক ভাইয়ের পক্ষ বেছে নিতে পারবেন। সে-অনুযায়ী প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিক, যারা কিনা জুতা তৈরিতে দক্ষ ছিলো, গিয়ে যোগ দিলো অ্যাডলফের সাথে। অন্যদিকে বিক্রয়ের কাজে থাকা শ্রমিকেরা বেছে নিলো রুডলফের পক্ষ। ভাগ হয়ে গেলো "Gebrüder Dassler Schuhfabrik"। অ্যাডলফ ডাসলার ওরফে অ্যাডি তৈরি করলেন "adidas" দেখাদেখি রুডলফও নিজের নামের দুই অংশ ‘Rudolf’‘Dassler’কে  একত্রিত করে তৈরী করলেন ‘Ruda’ কিন্তু পরে তা তিনি বদলে করে দিলেন "puma"। আর জন্ম নিলো ভবিষ্যৎ পৃথিবী বিখ্যাত দুটি প্রতিষ্ঠান "adidas" ও "puma"



শুরু হলো দুই ভাইয়ের মধ্যে চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং যুদ্ধ। দুই ভাইয়ের বিবাদকে কেন্দ্র করে গোটা হার্জোগেনোরাখ শহর দুভাগে ভাগ হয়ে গেলো। অরাখ নদীর একদিকে ছিল অ্যাডিডাস ও অন্যদিকে ছিল পুমার কারখানা। শহরের বেশিরভাগ লোকই হয় অ্যাডিডাস কিংবা পুমায় চাকরি করতো। তাই শহরের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ হতো এই দুটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা। বিবাদ এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে এক কোম্পানিতে চাকরি করা পরিবারের সাথে অন্য কোম্পানিতে চাকরি করা কারো বিয়ে করা ছিলো নিষিদ্ধ। এমনকি শহরটির লোকেরা অপরিচিত কারো সাথে কথা বলার আগেও ঘাড় নিচু করে দেখে নিতো সে কোন কোম্পানির জুতো পড়ে আছে। যদি প্রতিপক্ষের জুতো পায়ে থাকতো, তাহলে তার সাথে কথাই বলতো না তারা। এর ফলে একসময় হার্জোগেনোরাখ শহরের নাম হয়ে গিয়েছিলো ‘ঘাড় বাঁকানোদের শহর’। মৃত্যুর আগে অবধি দুই ভাইয়ের বিবাদ আর কখনোই মেটেনি আর তাদের এই বিবাদ ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার ফলেই আমরা পেয়েছি দুটি পৃথিবী বিখ্যাত ব্র্যান্ড "অ্যাডিডাস ও পুমা"



Related

News Headline

 | Egiye Bangla News
Visit the last Jewish confectionery at New Market

location_on Kolkata  access_time 22 Jul 01:28 PM

Head to New Market today, and visit the shop which is filled with colorful displays of cakes, rum balls, and cream-filled cakes.

Read More arrow_forward
 | Egiye Bangla News
Innovation at it’s best: You can ride a Car-Toon cab if you’re lucky!

location_on Kolkata  access_time 03 Jul 01:54 PM

If you’re lucky then you might this Non-ac car-toon taxi. A retro milk ambassador with a grassy roof and hand painted-cartoon all over

Read More arrow_forward

Trending

Hashtags

#movie #politics #titanic #birthdayjoy #maxartkiller